ঢাকা , শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অতীত সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অনন্যা, ভাইরাল মালাইকা–সোরাবের ভিডিও অতীত সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন অনন্যা, ভাইরাল মালাইকা–সোরাবের ভিডিও তাহিরপুরে বিশেষ অভিযানে ১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার রাণীশংকৈলে সড়ক দুর্ঘটনা ও কালবৈশাখী ঝড়ে দেয়াল ধসে স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ নগরীতে মাদক কারবারী গ্রেফতার ২ তানোরে প্রয়াত আজাহার মাস্টারের স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল বেগম খালেদা জিয়া এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বাগবাড়ী'তে দোয়া ও ইফতার মাহফিল তানোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৭ টেন্ডার বক্সে জোর করে সিডিউল জমা, শ্রমিকদল নেতার কারাদণ্ড রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০ টিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের জয় ঝিনাইদহে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৮ আদিত্যের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পরে কোন মোহভঙ্গ হয় অনন্যার রাণীনগরে প্রবাসীর স্ত্রী গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত‍্যা ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৪ ক্রু নিহত ধনী সেলিব্রিটিদের তালিকায় টেলর সুইফট ও কিম কার্দাশিয়ানও ‘চলমান প্রেক্ষাপটে ইরান আর আগের ইরান নেই’: নেতানিয়াহু চট্টগ্রামে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু শবে কদরের দোয়া মানিকছড়িতে পিকআপের ধাক্কায় আট বছরের শিশু নিহত ১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ

  • আপলোড সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:১৪:০৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:১৪:০৯ অপরাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ দক্ষিণ কোরিয়ায় বিয়ে ও সন্তানধারণে অনীহা! জনসংখ্যা কমতে পারে এক তৃতীয়াংশ
সিউল পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা স্পষ্ট হলেও সবচেয়ে চরম সংকটের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে না করা ও সন্তান না নেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় এক তৃতীয়াংশে সঙ্কুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট প্রজনন হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.৭২, যা ২০২২ সালে ছিল ০.৮১। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জন্মহার কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। একটি দেশের স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখতে যেখানে প্রয়োজনীয় প্রজনন হার ২.১, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান হার তার অনেক নিচে।

সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এর এক পুরোনো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দেশটির ইতিহাসে প্রথমবার জনসংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করে ২০২০ সালে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান হারে জন্মহার কমতে থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা ৫ কোটি ২ লক্ষ থেকে নেমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, তীব্র পেশাগত চাপ, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সন্তান লালনপালনের বাড়তি দায়িত্ব তরুণ সমাজকে প্রেম, ডেটিং, বিয়ে ও পরিবার গঠন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী বিয়ে করতে চান না। তাঁদের মধ্যে ৯৩ শতাংশের আশঙ্কা, বিয়ের পর গৃহকর্মের অতিরিক্ত বোঝা তাঁদের কাঁধে এসে পড়বে।

২০২৩ সালের আরেকটি সরকারি সমীক্ষায় দেখা যায়, চাকুরিরতা নারীরা সন্তান লালনপালনকে কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। শহরাঞ্চলে বিশেষ করে তরুণীরা পরিবার পরিকল্পনার চেয়ে পেশাগত উন্নতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনসংখ্যা সংকটের পেছনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও বড় ভূমিকা রাখছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, লিঙ্গবৈষম্যের কারণে অল্পবয়সি পুরুষদের মধ্যে নারীবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। পাশাপাশি পারিবারিক কাজ ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও পুরুষ ও নারীর মধ্যে বড় ধরনের অসমতা রয়েছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৬০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীদের গড়ে ছয়টি সন্তান ছিল। সত্তরের দশকের শুরুতেও এই সংখ্যা ছিল চার। অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সে সময় সরকার জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করে। ১৯৮২ সালের দিকে অর্থনীতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন হার নেমে আসে ২.৪-এ। তবে সাম্প্রতিক দশকে সেই হার দ্রুত তলানিতে ঠেকেছে।

একই সঙ্গে দেশটিতে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, অন্যদিকে সন্তানধারণে অনীহার ফলে কমছে পরিবারের সংখ্যাও। সরকার আশঙ্কা করছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিয়ে ও সন্তানধারণে যুবসমাজকে উৎসাহিত করতে একগুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। সরকারি উদ্যোগের আওতায় কোনও পুরুষ বা নারী বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে ডেটে যেতে চাইলে সেই ডেটের সম্পূর্ণ খরচ বহন করা হচ্ছে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, রেস্তরাঁয় খাওয়া, সিনেমা দেখা বা একান্ত সময় কাটানোর জন্য যুগলপ্রতি প্রায় ৩৫০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৩১ হাজার টাকা) পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ডেটিংয়ের সময় যদি যুগলের অভিভাবকদের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়, সেই খরচও আলাদাভাবে বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে যুগলদের জন্য থাকছে আরও বড় আর্থিক প্রণোদনা, সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সন্তানধারণের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে কোনও দম্পতি সন্তান নেওয়া থেকে বিরত না থাকেন।

তবু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু আর্থিক প্রণোদনা নয়, কর্মসংস্কৃতি, লিঙ্গসমতা এবং পরিবার কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে দক্ষিণ কোরিয়ার এই জনসংখ্যা সংকট দীর্ঘমেয়াদে কাটানো কঠিন হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০ টিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের জয়

রাজশাহী বার সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ২০ টিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের জয়